বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালসহ সারা দেশের স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালসংলগ্ন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এবং সদর রোডে অবরোধ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে দুই সড়কেই তীব্র যানজট ও যাত্রী দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
কেন এই আন্দোলন?
আন্দোলনের সংগঠক মহিউদ্দিন রনি জানান, সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা, রোগীদের হয়রানি এবং স্বাস্থ্য খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জন্য তাদের তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তিনি বলেন, শেবাচিম হাসপাতালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে সশরীরে এসে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি না আসায় দাবি আদায়ে তারা ‘বরিশাল ব্লকেড’ কর্মসূচি শুরু করেছেন। রনি আরও বলেন, যদি হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি ও অবহেলা চলতে থাকে, তাহলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।
ভোগান্তিতে যাত্রীরা
অবরোধের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে পুলিশ বিকল্প পথ ব্যবহারের ব্যবস্থা করেছে। কুয়াকাটা থেকে আসা যানবাহনগুলোকে নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোড থেকে ঘুরিয়ে নবগ্রাম রোড দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। এতে যাত্রীদের ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে না। আন্দোলনকারীরা অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন চলাচলের জন্য একটি ইমার্জেন্সি লেনও তৈরি করেছেন।
অব্যাহত আন্দোলন
গত ১৭ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এর আগে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে কয়েক ঘণ্টা করে আন্দোলন করেছেন। সোমবার সাড়ে ৪ ঘণ্টা, রোববার সাড়ে ৫ ঘণ্টা এবং শনিবার আড়াই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছিল।
এছাড়াও, শেবাচিম হাসপাতাল সংস্কারের জন্য সাত দফা দাবিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী সোমবার বেলা ১১টা থেকে হাসপাতালের প্রধান ফটকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন।











